1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. stsauto2@gmail.com : শেষ আলো : শেষ আলো
শিরোনাম :
 বেরোবি-র  উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে দুর্নীতির ৪৬ অভিযোগ সিলেটে যুক্তরাজ্য থেকে আসা ২৮ জন যাত্রীর শরীরে করোনা পজিটিভ বিশ্বকাপ সুপার লিগে শুরুতে জিতে ১০ পয়েন্ট পেলো বাংলাদেশ আলোচিত সাবেক এমপি আউয়াল ও তাঁর স্ত্রীর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ পূর্বপুরুষের দেশ কলকাতা এসে অভিনেত্রী বনিতা সান্ধু জানলেন, তিনি কোভিড আক্রান্ত নতুন ইতিহাসঃ জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সম্পাদক ইলিয়াস খান ফাইজার ভ্যাকসিন গ্রহণের ১ সপ্তাহ পর নার্স করোনা পজিটিভ সরকার এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য শীঘ্রই অধ্যাদেশ জারি করবে বাংলাদেশ ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করছে, যুক্তরাজ্য থেকে আসা যাত্রীদের প্যানডেমিক প্যাকেজে ট্রাম্পের সই

চলমান সংকট স্থায়ী সমাধান ক্ষমতা ভাগাভাগি করুন

  • Update Time : Sunday, June 12, 2011
  • 215 Time View

শেষআলো ডটকম :১২ জুন ২০১১: সৈয়দ আতাউর রহমান কবির : অবশেষে সংবিধান সংশোধন বিষয়ক বিশেষ কমিটি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিলেন। আপিল বিভাগ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষণা করছিলেন ১০ মে ২০১১ এবং বাস্তবতার কারণে আগামী দুই টার্ম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করার লক্ষে সংসদ সদস্যদের সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা উল্লেখ করছিলেন। একই সংগে আপিল বিভাগের বিচারপতিদের বাদ রেখে তত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি সংস্কারে পরামর্শ দিয়েছিলেন। সংসদ সদস্যরা তো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তারা তো রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিবেন এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু হঠাৎ করে কোন দিক থেকে বাতাস এলো সয়ং প্রধান মন্ত্রী নিজেই তার নিজের অবস্থান থেকে সরে আসলেন, আরো ভয়ংকর সিদ্ধান্ত নিলেন। এর আগে তবু বলেছিলেন, “তত্ত্বাবধায়ক সরকার থাকবে তবে নির্ধারিত ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে ব্যার্থ হলে পূর্ববর্তী সরকারের অধীনেই নির্বাচন।” কিন্তু প্রধান মন্ত্রি এবার তার মনের বাসনা ডাইরেক্ট পূর্ণ করলেন সাংবাদিক সম্মেলন করে বললেন-  “তত্ত্বাবধায়ক সরকার রাখার আর কোন রাস্তা নেই।” অর্থাৎ সরকার নীতিগত সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করছেন পদ্ধতিটি বাতিলের। সুতারং দেশে আবারো যে একটা অস্থির রাজনৈতিক পরিবেশ বিরাজ করবে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

 

শুধু তাই নয় আমরা যদি কয়েকজন রাজনীতি বিদের মন্তব্য বিশ্লেষন করি যেমন- ১) এরশাদ বলছেন সামনে অনিবার্য সংঘাত, ব্যার্থতার পথে মহাজোট সরকার, রাজপথে বি এন পি। ২) আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলছেন, নির্বাচন আদৌ হবে কিনা সন্দেহ যদিও হয় তাহবে হানাহানির, বলে তিনি মন্তব্য করেন। ৩) ন্যাপ সভাপতি অধ্যপক মোজাফ্ফর আহমেদ বলছেন, মন্ত্রি সভা ব্যার্থ। ৪) এলডিপি প্রধান কর্ণেল অব: ড: অলি আহমদ বীর বিক্রম বলছেন, আইন শৃংখলার ক্ষেত্রে গত ৪০ বছরের সব রেকর্ড ভঙ্গ করা হয়েছে তিনি আরো বলছেন সরকারের মানসিকতায় পরিবর্তন না হলে করুন পরিণতি হবে। ৫) কাজী জাফর আহমেদ বলছেন, রাজনীতিতে মহাপ্রলয় আসন্ন। ৬) কর্ণেল জাফর ইমাম বলছেন, এখন অন্ধকার সময়। তাদের বর্তমান রাজনীতি নিয়ে এমন মন্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুমান করা যায় যে তারা এমন কিছু খরাপ আলামত পূর্বেই পেয়েছেন এবং সে দিকেই দেশ ধাবিত হচ্ছে।

 

আওয়ামী লীগ ঘরনার অনেক বুদ্ধিজীবি, সাংবাদিক, পেশাজীবি আছেন যারা যার যে অবস্থান থেকে আওয়ামী লীগের মঙ্গঁলের জন্য আজো কাজ করে যাচ্ছেন তারাও বর্তমানে সরকারের একের পর এক ভূমিকা নিয়ে চিন্তিত। তারা এখন ওপেন সরকারের ভুল গুলোর সমলোচনা করছেন। এমন একজন জীবন্ত কিংবাদন্তি ভাষা সৈনিক আব্দুল মতিনের কথা বলছি, “তিনি মন্তব্য করছিলেন হাসিনা খালেদা দিয়ে কোন কাজ হবেনা।” তার সেই চরম সত্য কথায় আমাদের প্রধান মন্ত্রী কিন্তু থেমে থাকেননি। তিনি স্বভাব সুলভ ভঙ্গিমায় কোন এক অনুষ্ঠানে ভাষা সৈনিককে তিরস্কার করে বলছেন, “আর একজনের ব্যার্থতার দায় ভার তিনি নিবেন কেন?”

 

সর্বকালের স্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব  এবং শহীদ জিয়ার মত সত্যিকার দেশ প্রেমিক রাষ্ট্র প্রধান হয়তো আর আমরা পাব না। কিন্তু আমরা দুই নেত্রীকে নিয়া নিরাশ হতে চাই না। আমরা আর কোন ওয়ান এলেভেনের মুখামুখি হতে চাইনা। আজম জে চৌধুরী ও নূর আলীর মত নাটক যেন আগামীতে  খান সাহেব কিংবা দরবেশরা না করেন সে জন্য এখনই প্রধান মন্ত্রী কে জাতির সামনে স্বচ্ছতার খাতিরে হলেও এদের প্রতি কঠোর হওয়া উচিৎ।

 

তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি বাতেিলর সিদ্ধান্ত এখনও চূরান্ত নয় আইনী অনেক কাজ এখনও বাকী। কিন্তু প্রধান মন্ত্রীর এক সাংবাদিক সম্মেলনের পরিপ্রেক্ষিতে বি এন পি ও সমমনা দলগুলি হরতালের কর্মসূচি দিয়াছেন। বিরোধী নেত্রী আগের যে কোন সময়ের চেয়ে অনেক কঠোর হয়েছেন। হওয়াটা স্বাভাবিক, তিনি বলছেন তার আর কিছু হারাবার নেই, কিন্তু ক্ষমতায় যাওয়ার গ্রহণ যোগ্য নির্বাচন পদ্ধতিটি অন্তত হারাতে চাননা। হরতাল হয়তো সফল হবে কারণ মানুষ এই মুহুর্তে সরকারের উপর ক্ষব্ধ। দেশের মানুষ যদি সত্যিকার দেশপ্রেমিক নেতৃত্ব পেত তাহলে এই সরকার দুই বছরের বেশী ক্ষমতায় থাকতে পারত না।

 

কেন প্রধান মন্ত্রী ইউটার্ন নিলেন?

 

প্রধান মন্ত্রী তত্ত্বাবধায়ক সরকার পদ্ধতি সুপ্রিম কোর্টের রায়ে বাতিল হয়েছে বলে তা সংবিধানে না রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন। সেই বিতর্কিত রায়ে তো বিকল্প পথও ছিল, প্রধান মন্ত্রী সেদিক যান নাই। কারণ প্রধান মন্ত্রি অনুমান করতে পারছেন। জিনিস পত্রের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ পানি গ্যাসের সরবরাহ করতে না পারা, পরিবহন ক্ষেত্রে অরাজকতা দূর করতে না পারা এবং রাজনৈতিক কিছু সিদ্ধান্ত যেমন- জিয়া বিমান বন্দরের নাম পরিবর্তন, খালেদা জিয়াকে বাড়ী ছাড়া করা, ড. ইউনূসকে অপদস্ত করে গ্রামীণ ব্যাংক থেকে বাহির করে দেওয়া। (যদিও সবগুলি আদালতের মাধ্যমে) এগুলি জনগণ ভালবাবে নেয়নি। নির্বাচনী ওয়াদা তারা পূরণ করতে পারছেন না হয়তো বাকী মেয়াদে পারবেন ও না। যে দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী “এক লিমনের ব্যাপারে র‌্যাবের বারাবারি বন্ধ করতে না পেরে বলেন আমার কিছুই করার নেই”।

 

প্রতিটি মন্ত্রনালয়ের অনির্বাচিত উপদেষ্ঠারা যে ভাবে কথা বলছেন, তাতে মনে হয় কোন বিদেশী রাষ্ট্রের তালিকা অনুযায়ী তাদের নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তারা যেন মন্ত্রানালয় ভিত্তিক রাষ্ট্র দূত। কেননা প্রধান মন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা শেয়ার বাজারে নি:স্ব হয়ে যাওয়া মানুষদের নিয়ে উপহাস করে বলছিলেন তাদের জন্য তার মন কাদেনা। ট্রানজিট দিয়ে ভারতের নিকই হইতে সুবিধা পাওয়ার প্রসংগে মন্তব্য করছিলেন, “আমরা যদি অসভ্য জাতি হইতাম তাহলে ভারতের নিকট ট্রানজিটের বিনিময় সুবিধা চাইতে পারতাম।” গ্যাসের দাম বৃদ্ধির জন্য সম্প্রতি দেখলাম গণশুনানীর একটা অধ্যায় সম্পন্ন করা হয়েছে। শুনানীর ফলা ফল যদিও প্রকাশ করা হয়নি তবে কোথাও দেখিনাই বা শুনি নাই যে, কোন ব্যাক্তি বা প্রতিষ্ঠান এই মর্মে মত দিয়েছেন যে গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করা হোক…. কিন্তু সরকার গ্যাসের দাম বৃদ্ধি করছেন এ নাটক সম্পর্কে জনগণ স্বচেতন।

 

সম্প্রতি জনগণ সরকারের বিরুদ্ধে যেখানে সুযোগ পেয়েছে সেখানে রায় দিয়েছে। পৌরসভা নির্বাচনে সরকারের জন্য একটা প্লাস পয়েন্ট হয়েছে, সরকার বুঝতে পারছে তাদের অবস্থান কি। সরকার যেখানে মেকানিজম করছে সেখানে সরকারী দল জয়ী হয়েছেন। যেখানে পরাজিত হয়েছেন তার মধ্যে অনেক এলাকাই ছিল আওয়ামীলীগের দূর্গ। আওয়ামীলীগ কখনও বুঝতে পারে নাই যে, প্রেসিডেন্টের এলাকা আওয়ামীলীগের সেক্রেটারীর এলাকা, ফরিদপুর সাজেদা চৌধুরীর এলাকা, মতিয়া চৌধুরীর এলাকায় তাদের কে মেকানিজম করতে হবে। তাই তারা তাদের দূর্গে মেকানিজম করে নাই। জনগণ ও সুযোগ হাতছাড়া করে নাই,  ভুলকরে নাই, ব্যালটের মাধ্যমে সরকারকে হুসিয়ার করে দিয়েছে। ক্ষমতা এমন একটা মোহ, যেখানে থাকলে সবাই অন্ধ হয়ে যায়। কেন যেন ভুল করে। তেমন একটা ভুল পথে হাটছে সরকার। আগামী আড়াই বছর সরকার ভালভাবে চলবে তা না করে তাদের চলার পথ দূর্গম করে তুলছে তারা নিজেরাই। কেন করছে তার উত্তর দিতে পারবেন প্রধান মন্ত্রীর উপদেষ্ঠারা। তবে আপাতত মনে হচ্ছে ২০১৩ এরপর আবার ক্ষমতায় যাওয়ার লিপসায় এবং যুদ্ধপরাধীদের বিচারের বিষয়টি মিমাংশা না করে, বিরোধী দলকে আন্দোলনে ঠেলে দিয়ে ঐ বিচার না হওয়ার জন্য বিরোধী দলের উপর দায়ভার চাপিয়ে দেওয়া এবং পরবর্তী নির্বাচনেও ইস্যুটিকে সামনে নিয়ে আসতে চায় সরকার।

 

অন্যদিকে আমাদের দেশের স্থীতিশীলতা যারা চায়না ক্ষমতায় আসার জন্য এবং আন্দোলন সংগ্রাম করার জন্য আমরা যাদের অনুমতির জন্য ছুটাছুটি করি বিদেশে সেই কুটনৈতিক বন্ধুদের সাথে আমাদের কন্ডিশন কি হয় তা আমাদের এই দুটি দলের শীর্ষ নেতারা ভালকরেই যানেন। কারণ তারাই তো সেখানে প্রী-কন্ডিশন গুলি দিয়ে আসেন। কাজেই ইচ্ছা করলে আওয়ামী লীগ সফল হতে পারতো কিন্তু সমস্যা ঐ খানেই। আমরা জনগণের পক্ষ থেকে নি:সন্ধেহে  এ কথা বলতে পারি যে, আওয়ামী লীগ সরকার আড়াই বছরের মাথায় এসে চরম ব্যর্থ হয়েছে। কাজেই প্রধান মন্ত্রী চাবেন যেন তাদের অধীনেই নির্বাচন হয় এবং সে নির্বাচনে যে কোন প্রকারে আবার যেন সরকার গঠন করতে পারে আওয়ামীলীগ।

 

আমাদেরতো ভবিষ্যত অন্ধকার। ধরা যাক আন্দোলন সংগ্রাম কিংবা সমঝোতা যে কোন ভাবেই হোক বি এন পির নিকট একটা গ্রহণ যোগ্য নির্বাচন পদ্ধতি বিবেচিত হলো, আর সেখানে যদি জনগণ ভোট দিতে পারে তবে নিশ্চিত আওয়ামী লীগকে তারা প্রত্যাক্ষ্যান করবে। কিন্তু বিকল্প হিসাবে তারা আবার বি এন পি এর নেতৃত্বে জোটকে ক্ষমতায় আনবে। এভাবে দ্বিদলীয় ক্ষমতা চক্রে দেশ চলবে। কিন্তু বিএনপি কি সফল হবে? ভবিষ্যত বিরোধী দল বর্তমান (বিএনপি) বিরোধী দলের আচরণ থেকে কি শিখলো? আমরা কেউই পরিবর্তন চাইনা।

 

পরিত্রানের উপায় কি ?

 

পরিত্রানের উপায় একটাই এখনও জনগণ দুই নেত্রীর প্রতি যথেষ্ট আস্থাশীল। দুই নেত্রীর কেউ তো আর অবসরে যাবেন না, যদিও শেখ হাসিনা বলছিলেন ৫৭ বছর বয়সে তিনি নিজেও রাজনীতি থেকে অবসর নিবেন। ৫৭ বছর তার জীবনে আর আসবে কি ? তাই তাদের উচিৎ শেষ জীবনে এসে দু’জনকে একটু দেশ প্রেমিক হওয়া, এবং বংশধর দের কে ও দেশ প্রেমে উদ্ভুদ্ধ করা। দেশ প্রেম থাকলে তাদের মধ্যে বিশ্বাস্থতা ফিরে আসবে। বিশ্বাস ফিরে পেলে তারা আলোচনায় আসবে। আলোচনায় আসলে সব কিছু সমাধান হবে।

 

দুই নেত্রীর মধ্যে উভয়ই একটি জায়গায় একমত তাহলো উভয়ই ক্ষমতায় যেতে আগ্রহী। দেশের কথা চিন্তা করে দুই নেত্রী তথা দুই দল ক্ষমতা ভাগাভাগি করতে পারে। যেহেতু সবাই চান ক্ষমতা, তাই নির্বাচিত প্রতিনিধী নিয়ে পার্লামেন্ট হবে কিন্তু মন্ত্রী পরিষদে ক্ষমতা ভাগাভাগি করা যায় প্রাপ্ত ভোটের একটা আনুপাতিক হারে প্লাস পার্লামেন্ট সদস্যদের আনুপাতিক হারের সাথে সমন্বয় করে। তা হলে হয়তো হানাহানি বন্ধ হবে। বিষয়টি ভেবে দেখা দরকার এখনই।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 sheshalo
Site Customized By NewsTech.Com