1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. stsauto2@gmail.com : শেষ আলো : শেষ আলো
শিরোনাম :
 বেরোবি-র  উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে দুর্নীতির ৪৬ অভিযোগ সিলেটে যুক্তরাজ্য থেকে আসা ২৮ জন যাত্রীর শরীরে করোনা পজিটিভ বিশ্বকাপ সুপার লিগে শুরুতে জিতে ১০ পয়েন্ট পেলো বাংলাদেশ আলোচিত সাবেক এমপি আউয়াল ও তাঁর স্ত্রীর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ পূর্বপুরুষের দেশ কলকাতা এসে অভিনেত্রী বনিতা সান্ধু জানলেন, তিনি কোভিড আক্রান্ত নতুন ইতিহাসঃ জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সম্পাদক ইলিয়াস খান ফাইজার ভ্যাকসিন গ্রহণের ১ সপ্তাহ পর নার্স করোনা পজিটিভ সরকার এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য শীঘ্রই অধ্যাদেশ জারি করবে বাংলাদেশ ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করছে, যুক্তরাজ্য থেকে আসা যাত্রীদের প্যানডেমিক প্যাকেজে ট্রাম্পের সই

প্রসংগঃ “প্রধানমন্ত্রীর অংশীদারিত্বের অন্তর্বর্তী সরকার”

  • Update Time : Sunday, August 12, 2012
  • 204 Time View

০৬ আগষ্ট ২০১২ (শেষআলো ডটকম): সৈয়দ আতাউর রহমান কবির :  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নির্বাচনের আগে সংসদ ভেঙে দেবার পর বিএনপির অংশীদারিত্বে একটা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়ে যে বিকল্প ভাবনার কথা বিবিসি বাংলার সাথে সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন, বিরোধী দল বিএনপি ঐ প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য বলে দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের অবস্থান জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ঐ প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য বলে বিএনপি তা প্রত্যাখ্যান করার পর এই বিকল্প-ভাবনা কি কার্যত ধামাচাপা পড়ে যাচ্ছে, না কি এ নিয়ে আরও আলোচনার অবকাশ আছে? বিবিসি বাংলা জানতে চেয়েছিলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফের কাছে। হানিফ সাহেব বলছেন প্রধানমন্ত্রী ছাড়া অন্য কোন ব্যক্তি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হিসেবে আসার কোন সম্ভাবনা দেখছে না আওয়ামী লীগ। এবং আলোচনা করলেও তারা শুধুমাত্র অন্তর্বর্তী সরকারের রূপরেখার বিষয়েই আলোচনায় আগ্রহী। তিনি আরো বলেন “আমি আশা করি বিএনপি তাদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসবেন”।

এবিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমেদ অত্যান্ত যুক্তিসংগত ভাবেই বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই যদি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান হন তাহলে তা আর নিরপেক্ষ থাকে না। “প্রধানমন্ত্রী যেখানে থাকবেন, সেটাকে সেই দলের মন্ত্রিসভা হিসেবেই ধরে নিতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকার থাকবে, সংসদ থাকবে, এমপিরাও এমপি থাকবেন। তাহলে নির্দলীয় হলো কিভাবে?”

উল্লেখ্য বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিবিসি বাংলাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলছিলেন, আগামী সাধারণ নির্বাচনের সময় যে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হবে তাতে বিরোধীদল বিএনপির অংশীদারিত্ব থাকতে পারে। প্রধানমন্ত্রী বলেন সংসদের মেয়াদ শেষ হবার তিন মাস আগেই নির্বাচনের ঘোষণা দিতে হবে।তবে সেই তিন মাস সংসদের কোন অধিবেশন থাকবে না, এবং সদস্যদের কোন কার্যকরী ক্ষমতাও থাকবে না। ফলে সংসদ সদস্যরাও প্রভাব খাটাতে পারবে না বলে তিনি দাবি করেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই প্রস্তাব যে কোন রাজনৈতক দলের কাছেই গ্রহণযোগ্য হবেনা তা স্পষ্ঠ প্রখ্যাত সংবিধান বিষেজ্ঞ ব্রাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনের অধ্যাপক ডঃ স্বাধীন মালিকের বক্তব্যে।ডঃ মালিক বিশ্বাস করতেই পারেন নাই যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমন প্রস্তাব দিতে পারেন ।তিনি স্পষ্ঠ করেই বলছেন, “প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি এই প্রস্তাব দিয়েই থাকেন তাহলেআমি বলব তিনি বুঝে দেন নাই। কেননা পৃথিবীর কোন দেশেই একটা পার্লামেন্ট বহাল রেখে আরএকটা পার্লামেন্ট নির্বাচনের নজীর নাই”।

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের এ প্রস্তাব নিয়ে প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের বাইরেও বিভিন্ন মতামত আসছে। গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার রফিকুল হক মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকারের প্রস্তাবের মাধ্যমে কিছুটা নমনীয় মনোভাব দেখিয়েছেন। এখন বিরোধী দলকে এ সরকারের বিষয়ে তাদের উদ্বেগগুলো নিয়ে একটি আলোচনায় আসা প্রয়োজন। তিনি মনে করেন প্রধানমন্ত্রী অন্তর্বর্তী সরকারের যে প্রস্তাব দিয়েছেন তার মধ্য দিয়েই রাজনৈতিক সমঝোতা হবে৷ এবং এই সমঝোতা খুব বেশি দূরে নয়৷ তবে তিনি মনে করেন, নির্বাচনকালীন সরকার যে রকমই হোক না কেন তার প্রধান যেন হন নির্দলীয় এবং নিরপেক্ষ ৷ তিনি আরো বলেন, শেখ হাসিনার প্রস্তাবের পর বিএনপির এর পক্ষেই প্রতিক্রিয়া দেয়া উচিত ছিলো। সরকার প্রধান নিয়ে তারা প্রশ্ন করতে পারতো। দুই পক্ষই একমত হলে প্রেসিডেন্ট বা স্পীকারকেও এর প্রধান করতে পারে।

কিন্তু বিএনপি তাদের আগের দাবীতেই অনড় রয়েছে। তাদের দাবী, জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে হবে একটি নির্দলীয় সরকারের অধীনে এবং অন্তর্বর্তী সরকারে দলীয় কোন ব্যাক্তির অবস্থান মেনে নিতে তারা প্রস্তুত নয়। নির্বাচনের প্রায় দেড় বছরেরও কম সময় বাকী থাকতে নির্বাচনকালীন সরকারের প্রশ্নে সরকারী দল বা বিরোধী দলের মধ্যে ছাড়ের মনোভাব এখনো দেখা যাচ্ছে না। ঠিক এই মূহূর্তে আমরা মনেকরি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রস্তাবে রাজনীতিতে সঙ্কট নিরসনের আভাস যখন দেখা গেছে তখন সবাইকেই কাদা ছোড়াছুড়ি বন্ধ করতে হবে৷ বন্ধ করতে হবে ব্যক্তিগত আক্রমণ৷

এমন রাজনৈতিক সংকটের অবসান করতে সরকারকে যতটা ছাড় দেওয়া দরকার ততটা ছাড় তো দিচ্ছেই না এমনকি বিএনপি কে আনুষ্ঠানিকভাবে কোন প্রস্তাব জানাতেও চাচ্ছেনা সরকার ।মাহাবুল হক হানিফ বলেন, “আমরা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে কোন প্রস্তাব জানাতে চাচ্ছিনা। কারণ প্রস্তাব বিএনপি না মানলে সেখানে আলোচনার কোন সুযোগ থাকলো না । প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব তারা যদি মানসিকভাবে গ্রহণ করেন, তবে আরো আলোচনা করে তার একটি চুড়ান্ত রূপরেখা দেয়া যেতে পারে” ।

আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে না দিলেও, দুটি দলই নিজস্ব অবস্থানে অনড় থেকে অপর পক্ষকেই আলোচনার প্রস্তাব নিয়ে আসার আহ্বান জানাচ্ছে। অর্থাৎ দুই দলই তাদের নিজস্ব ভাবনা গুলি চায় আলোচনার পূর্বেই অপরপক্ষকে হজম করাতে।যা আলোচনাকে অর্থহীনকরা ছাড়া আর কোন উপকারে আসবে বলে এদেশের কোন সুস্থ নাগরিক মনে করে না।

এক দিকে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোন প্রস্তাব বিএনপিকে না জানানো, অন্য দিকে অংশীদারিত্বের অন্তর্বর্তী সরকারের বিকল্প প্রস্তাব অগ্রহণযোগ্য বলে সরাসরী প্রত্যাখ্যান করার মধ্য দিয়ে সর্বশেষ বাংলাদেশের রাজনৈতিকনাট্যমঞ্চে যে নাটক মঞ্চাস্থ হতে যাচ্ছে ,দর্শকজনগন চায় সে নাটক যেন হয় গনমানুষের তরে । এ নাটকের প্রযোজক, পরিচালকের পারফরমেন্সের চূল চেরা হিসাব দর্শকজনগন করতে চায়। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস- প্রযোজক, পরিচালকেরা দর্শকজনগনকে অন্ধকারে রেখে বেহিসাবি পথ হাটছেন । জানেনা তারা কী হবে তাদের, যদি জাগে এই দর্শকজনতা ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 sheshalo
Site Customized By NewsTech.Com