1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. stsauto2@gmail.com : শেষ আলো : শেষ আলো
শিরোনাম :
 বেরোবি-র  উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে দুর্নীতির ৪৬ অভিযোগ সিলেটে যুক্তরাজ্য থেকে আসা ২৮ জন যাত্রীর শরীরে করোনা পজিটিভ বিশ্বকাপ সুপার লিগে শুরুতে জিতে ১০ পয়েন্ট পেলো বাংলাদেশ আলোচিত সাবেক এমপি আউয়াল ও তাঁর স্ত্রীর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ পূর্বপুরুষের দেশ কলকাতা এসে অভিনেত্রী বনিতা সান্ধু জানলেন, তিনি কোভিড আক্রান্ত নতুন ইতিহাসঃ জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সম্পাদক ইলিয়াস খান ফাইজার ভ্যাকসিন গ্রহণের ১ সপ্তাহ পর নার্স করোনা পজিটিভ সরকার এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য শীঘ্রই অধ্যাদেশ জারি করবে বাংলাদেশ ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করছে, যুক্তরাজ্য থেকে আসা যাত্রীদের প্যানডেমিক প্যাকেজে ট্রাম্পের সই

ডিজিটাল সংলাপ নয়, চাই এনালগ সমাধান ।

  • Update Time : Friday, December 20, 2013
  • 216 Time View

২৩ ডিসেম্বর ২০১৩ (শেষআলো ডটকম): সৈয়দ আতাউর রহমান (কবির): জনাব সজীব ওয়াজেদ জয় বলছেন, “বেশ কয়েক দিন হয়ে গিয়েছে পাকিস্তানের সংসদ “মিরপুরের কসাই” কাদের মোল্লার ফাঁসির শাস্তির নিন্দা প্রস্তাব পাশ করেছে।আমার মা এবং সব বাঙালি এই ধরনের রেজুলেশনে ক্ষুব্ধ এবং এর নিন্দা জানিয়েছেন। তথাপি আমাদের বিরোধীদলের নেত্রী খালেদা জিয়া এ বিষয়ে পুরোপুরি নিরব রয়েছেন।”-২০/১২/২০১৩

আসলে ৪২ বছর ধরে জাতির প্রতিক্ষার পরে, যুদ্ধাপরাধের না হলেও মানবতা বিরোধী অপরাধের রায় বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে ৷ এই বাস্তবায়নের পক্ষে বিপক্ষে নানা মতভেধ থাকলেও একথা নির্দিধায় বলা যায়, যে এবারের বিজয় দিবস বাংলাদেশীদের কাছে নতুন রূপে ধরা দিয়েছিল ৷ বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম মানবতা বিরোধী অপরাধীর ফাঁসির ৩ দিন পর এই বিজয় দিবস জাতিকে ভিন্ন মাত্রায় উজ্জীবিত করেছিল ৷  দিয়েছিল নতুন সাহস,  ভাগ্যের নিস্ঠুরতা এই যে, বাংলাদেশীদের সেই সাহসের পরীক্ষায় নূতন ভাবে উত্তীর্ন হতে হচ্ছে পরাজিত শক্তি সেই পাকিস্তানের সাথেই কুটনৈতিক লড়াই করে ।

জনাব জয় বলেছেন,”বেশকয়েকদিন হয়ে গিয়েছে” বেশকয়েকদিন নয় , আমাদের বিজয় দিবসের দিন ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানের এসেম্বেলীতে কোন কারন ছাড়াই “মিরপুরের কসাই “কাদেরমোল্লার ফাঁসির শাস্তির নিন্দাপ্রস্তাব পাশ করেছে । জনাব জয়, ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবসটির কথা  ম্যানশন করেন নাই ।যাই হোক পাকিস্তানের এই ঘৃন কাজের নিন্দা জানাই ধিক্কার জানাই ।

 

বিরোধীদলের নেত্রী খালেদা জিয়া একটা দলের প্রধান হলেও একথা সবাই বিশ্বাস করেন যে, হুটহাট করে যে কোন বিষয়ে তিনি মন্তব্য করেন না। তাকে ১৪ ডিসেম্বর এবং ১৬ ডিসেম্বর সর্বশেষ প্রকাশ্যে দেখাগেছে যথাক্রমে বুদ্ধিজিবী ও বিজয় দিবসের সকালে । প্রোটোকল অনুযায়ী ঐসব  কর্মসূচীতে তার কোন বক্তব্য ছিল না । পত্রীকার লেখা পড়ে জেনেছি, বিএনপির সব শ্রেনীর নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা হামলা গ্রেফতারী পরোয়ানায় দলের আন্দোলনের সমন্বয়কের দায়িত্ব নিজেই হাতে তুলে নিয়েছেন বিরোধী নেতা খালেদা জিয়া। তিনি সরাসরি যোগাযোগ রাখছেন তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে। জেলা, উপজেলা, থানা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটির নেতাকর্মীদের তালিকা ধরে ফোন করছেন। খোঁজ নিচ্ছেন কোন জেলায় কতজন নেতাকর্মী সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সরকার দলের নেতাকর্মীদের হামলায় নিহত হয়েছেন, গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন, মামলা-হামলা শিকার হচ্ছেন। অর্থাৎ আন্দোলন নিয়ে তিনি এই মূহুর্তে বেশী ভাবছেন ।

তথাপিও বলবো বর্তমানে দলের মূখপাত্র বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য জনাব, নজরুল ইসলাম খাঁনের নিকট সাংবাদিকরা পাকিস্তানের পার্লামেন্টে কাদের মোল্লার রায় কার্যকার হওয়ায় শোক ও নিন্দা প্রস্তাবে বিএনপির প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে, সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলছেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মত পাকিস্তান ও এই রায়ের প্রক্রিয়া নিয়ে তাদের নিজস্ব প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন, কিন্তু বাংলাদেশের অভ্যান্তরীন বিষয়ে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে প্রস্তাব পাশ করায় তিনি বলেন, সরকারের উচিৎ ছিল সাথে সাথেই বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাই কমিশনকে ডেকে এর প্রতিবাদ করা”। জনাব, নজরুল ইসলাম খাঁনের এই মন্তব্য কে আমরা বিএনপির প্রতিক্রিয়া তথা খালেদা জিয়ার প্রতিক্রিয়া হিসাবে কেন গ্রহন করতে চাই  না ?

 

জনাব সজীব ওয়াজেদ জয় খালেদা জিয়ার উদ্দেশ্যে আরো বলছেন, তিনি জামায়াতের সাথে সহযোগী হয়েছেন দীর্ঘ সময় ধরে এবং তার নিরবতাই বলে দেয় তিনি তাদের পক্ষ নিয়েছেন। তিনি বাংলাদেশের বিপক্ষে গিয়ে জামায়াত এবং পাকিস্তানের দোসর হয়েছেন। এটা লজ্জাজনক।

খালেদা জিয়া জামায়াতের সাথে সহযোগী হয়েছেন কিংবা জামায়াতের সংগে জোটবদ্ধ হয়েছেন যা ই হয়ে থাকেন না কেন এটাতো এই ডিসেম্বর মাসে হয় নি । এটা রাজনৈতিক একটা ঐতিহাসিক প্রক্রিয়া । যে প্রক্রিয়া ১৯৮৬ সালের এরশাদের পাতানো নির্বাচনে জামাত আওয়ামী লীগ একত্রে অংশ গ্রহন থেকে পর্যাক্রমে শুরু হয়েছে  । ১৯৯১ সালে সাধারন নির্বাচনে বিএনপি ১৪০ আসন, আওয়ামীলীগ ৮৮, জাতীয় পার্টি ৩৫ জামায়াত ১৮ আসন পেলে জামাত সরকারে না গেলেও বিএনপি কে সরকার গঠনে সহয়তা করে । উল্লেখ্য ঐ নির্বাচনে কিছু আসনে জামায়াতের সাথে বিএনপির সমর্থনের বিষয় সমাঝোতা হয়ে ছিল । এর পরে আওয়ামিলী লীগ জামাতের সাথে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ইসুতে একসাথে  বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে দূর্বার আন্দোলন করলো, জামাত বিএনপি ঐক্য ভেঙ্গে গেল । ১৯৯৬ এর নির্বাচনে জামাত একক নির্বাচন করে মাত্র ৩ টি আসন পায়, বিএনপি ১১৬ টি আসন পেয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসে সর্বাধীক সংখ্যক আসন পেয়ে প্রধান বিরোধী দলে চলে যায় । জামায়াত বিএনপি উভয়ই অংক করে দেখলো নির্বাচনী জোট হলে উভয় দলই লাভবান হয়, ২০০১ এর নির্বাচন তার বাস্তব প্রমান  । কাজেই জামায়াতের সংগে ঐক্য হলেই যদি পাকিস্তানের দোসর হয় তবে কমবেশী  আওয়ামিলী লীগ বিএনপি উভয় দলই একই দোষে দোষী ।

 

ব্যাক্তিগত ভাবে আমি মনেকরি পাকিস্তানের সাথে আমাদের দুইদুইবার বোঝাপড়া হয়েছে এবং দুইবারই আমরা অত্যান্ত ন্যায়সংগত ভাবে জয়ী হয়েছি । পাকিস্তান এখন একটা ব্যার্থ রাষ্ট্র, যার নিজ আকাশ একসময়ের মিত্রের পাঠানো ড্রোনের দখলে । পূরো দেশের অর্ধেক জঙ্গীবাদের দখলে । রাজনৈতিক অস্থিরতা চলছে প্রতিনিয়ত, আইএসআই তার প্রানহীন গোয়েন্দা সংস্থা । অর্থনৈতিক ভাবে পাকিস্তান এখন বাংলাদেশের চেয়ে অনেক পিছিয়ে । পাকিস্তান একটি পারমানবিক শক্তিধর রাষ্ট্র এটাই এখন আন্তর্জাতিক ভাবে তার সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি । সেই পাকিস্তান বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলাম ছাড়া অন্য কোন রাজনৈতিক দলকে ডমিনেট করবে এটা পাকিস্তানের জন্য এখন একটা রুপকথা ছাড়া আর কিছুই না ।

একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের পক্ষে কিছু নাবলায় জনাব জয়  লজ্জিত হয়েছেন । মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে একজন প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বারবার বিভিন্ন সভায় অন দ্যা রেকর্ড প্রকাশ এবং প্রচার হয়েছে । তিনি বলছেন এই বিচার প্রক্রিয়া স্বচ্ছ নয়,আন্তর্জাতিক মানের নয় এবং রাজনৈতিক পক্ষপাতুষ্ঠ। বেগম জিয়ার এই বক্তব্য গুলির সত্যতার পক্ষে অনেক ঊদাহরন আছে। তার আন্দোলন সংগ্রাম সবইতো বাংলাদেশের পক্ষে । জোড়করে বিপক্ষে নেওয়ার প্রক্রিয়াকে এখনই বন্ধ করা উচিত । মন্ত্রীত্ব থেকে পদত্যাগ করলে বলাহয়  পদত্যাগ হয় নাই, নমিনেশন প্রত্যাহার করলেও বলা হয় প্রত্যাহার হয় নাই । জোরকরে মন্ত্রী বানানো আর এমপি বানানোর এ প্রক্রিয়ার মত প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রীর কার্যক্রম গতি যেন আবার জোর করে পরিবর্তন করা না হয় । যদিও তিনি স্বাধীনতা ঘোষকের স্থ্রী । তিন বারের প্রধানমন্ত্রী  কখন কোন কথা বলতে হবে তা তিনি নিশ্চই ভালো জানেন । ডিম আগে না মুরগী আগে এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর তার কাছথেকে কেউ আশা করে উত্তর না পেয়ে দূঃখ পেলেও লজ্জিত হওয়ার কোন কারন নেই । যে কাদের মোল্লার তথা গোটা মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়া সঠিক নয় বলে বেগম জিয়া মনেকরেন সেই কাদের মোল্লার ফাঁসির শাস্তির নিন্দা প্রস্তাব পাশ করেছে পাকিস্তানের সংসদ । এমন ধৃস্ঠতায় পাকিস্তানের বিপক্ষে অনেকেই অনেক কিছু বলছেন বেগম জিয়াও কিছু বলতে পারতেন, বিব্রত অবস্থান থেকে সরে এসে হয়তো তিনি কিছুএকটা বলবেন, আর না বললেই কী এমন  আসে যায় ? উনি যে দলের প্রধান সেই দলের প্রধান কার্যালয়ে  RAB পূলিশের দখলে, ওনার দলের নেতা কর্মীরা জেলে , মূলদলের মূখপাত্র যিনি হন তিনি গ্রেফতার হন । ছাত্রদল যুবদল যেই ভাপ্রাপ্ত নেতৃত্ব পান তাকেই পূলিশ হাতে গ্রেফতার বরন করতে হয় । কার সাথে সূর মিলিয়ে উনি দেশপ্রেমের কোরাশ গাইবেন ?  তাছাড়া বিষয়টা তো এমন নয় যে তিনি সব ব্যাপারেই কথা বলছেন শুধু এই বিষয়টা নিয়েই নীড়ব । এ বিষয়ে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপে উনি হয়তো সন্তুষ্ট ।

 

পাকিস্তানের সংসদ কাদের মোল্লার ফাঁসির শাস্তির নিন্দা প্রস্তাব পাশ করেছে এটা  তাদের অভ্যান্তরিন বিষয়, আমরা ইচ্ছা করলে আন্দোলন করে ঐ বীল প্রত্যাহার করতে পারিনা তেমনি রায় নিয়েও তাদের বিবৃতি দেওয়ার ও অধিকার আছে। যেমন অধিকার প্রয়োগ করছে পৃথিবীর অনেক বড়বড় দেশ হইতে খোদ জাতিসংঘের মহাসচিব পর্যন্ত । সমস্যাটা হচ্ছে বাংলাদেশী ১০০ ভাগ মানুষ এখন স্বাধীনতার পক্ষে । যে স্বাধীনতা আমরা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৯ মাস যূদ্ধ করে লাখো শহীদের রক্তের বিনিময় পেয়েছি সেই পাকিস্তানের সংসদে আমার দেশের মানবতা বিরোধী অপরাধীর ফাঁসির শাস্তির নিন্দা প্রস্তাব পাশ করেছে, রক্ত মাংসের শরীরে এটা কারো সহ্য হওয়ার কথা নয় । পাকিস্তান এটা করার সাহস কেন পেয়েছে ? কারন আমরা কথাদিয়ে কথা রাখিনাই । নির্বাচনী অংগীকারে বলছিলাম আমরা যুদ্ধাপরাধের বিচার করবো কিন্তু আমরা পাকিস্তানকে(১৯৫জন যুদ্ধাপরাধী) ছাড় দিয়েছি। আমরা করছি মানবতা বিরোধী অপরাধের বিচার । পাকিস্তান কে আমরা বসতে দিয়েছিলাম কিনতু পাকিস্তান শুয়েপরছে । কূটনৈতিক বিষেস্বজ্ঞরা বলছেন একটু দেড়ী হলেও পাকিস্তানের বিরুদ্ধে সরকার যে ব্যাবস্থা নিয়েছেন তা সঠিকভাবেই নেওয়া হয়েছে । পাকিস্তান ভুলের জন্য দূঃখ প্রাকাশ নাকরাপর্যন্ত কূটনৈতিক যুদ্ধ চালিয়ে যেতে হবে ।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকরাও আমাদের বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান বর্জন করেছেন। এটা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য অপমানজনক। ইতিমধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ৫ই জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষক পাঠাবে না বলে জানিয়েছেন। ইউরোপীয় ইউনিয়ন জামায়াতিদের পক্ষ নিয়েছেন বলে জনাব জয় উল্লেখ করছেন । ভাগ্যিস ইউরোপীয় ইউনিয়নের কূটনীতিকদের রাজাকার বলা হয়নি ।এদিকে আজ পর্যবেক্ষক পাঠাবে না বলে জানিয়ে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের এক বিবৃতিতে নির্বাচন নিয়ে গ্রহণযোগ্য সমাধান বের করতে আহবান জানানো হয়েছে। বিদেশী দের জামায়াত প্রেমী না বলে কেন তারা পর্যবেক্ষক পাঠাবেনা সেই দিকটা আমাদের গভীর ভাবে ভাবা উচিৎ ছিল । তাতে দেশের মঙ্গল হতো ।

নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু হওয়ার প্রথম শর্তই হচ্ছে প্রধান বিরোধী দলের অংশগ্রহন নিশ্চিত করা । বাংলাদেশের বাস্তবতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন খুব বেশী চিন্তার কারন নয়। বর্তমানে এই নির্বাচনে সরকার প্রচন্ডভাবে কারচুপি করে পারপেতে পারবেনা । স্থানীয় সরকার নির্বাচন হয় একএক সময় সীমিত স্থানে সেখানে সতস্ফূর্ত কর্মীদের উপস্থিতি থাকে ব্যাপক ।প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়া কভারেজ দিতেপারে ব্যাপক ভাবে, ফলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কাচুপির আশংকা কম থাকে ।কিন্তু জাতীয় নির্বাচন ঠিক তার উল্টা, যেহেতু নির্বাচনটি দেশব্যাপী হয় সেহেতু প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়া কভারেজ দিতেপারে সীমিত ভাবে এ নির্বাচনে একটা সরকার পরিবর্তন হয় সেহেতু এখানে জিত-জিত (ww) ফরমুলা ভিত্তিক নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থা ছাড়া কোন বিকণ্প পথ নেই।

 

ফ্রী ফেয়ার এবং ক্রেডিবল ইলেকশনের জন্য চাই লেবেল প্লেইং ফিল্ড। বাংলাদেশের বাস্তবতায় তাই জাতীয় নির্বাচন অর্থাত যে নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন হয় এমন নির্বাচন দলীয় প্রধানমন্ত্রীর অধীনে অসম্ভব । তা ছারা বিরোধীদের মূল দাবীতো নির্বাচনকালীন সরকারব্যবস্থার প্রধান হতে হবে সবার কাছে গ্রহনযোগ্য এবং সেই পদে অবশ্যই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যাতিত অন্য কে অধিষ্ঠিত হবেন সে ব্যাপারে একটা আলোচনার আহব্বান । জনাব জয় বলছেন, “বিরোধীদলকে নির্বাচনে আনতে আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছেন তারা”এই চেষ্টাটা কে কোথায় করছেন জনগন কিন্তু এইসব ডিজিটাল প্রচেষ্টা কিংবা ডিজিটাল সংলাপ আর এক মূহুর্তও  দেখতে চায়না । আমরা কিন্তু ডিজিটাল প্রচেষ্টা না দেখলেও ৫ ই জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে এরশাদকে ফিরিয়ে আনতে অনেক এনালগ চেষ্টার দৌড়ঝাপ দেখেছি । অনেকেই মনে করেন, জাতীয় পার্টির পিছনে সরকার যত আন্তরিক হয়ে আলোচনা করছেন তার সিকিভাগ আন্তরিকতা নিয়ে যদি পিএনপির সাথে বসতেন তাহলে দেশটা এতদিনে বেঁচে যেত ।

ভারতে হিন্ধুস্থান টাইমসের বাংলাদেশ নিয়ে একটা নিউজের হেডলাইন ছিল বাংলাদেশ জ্বলছে “দ্বায় ভারতের”। মনে রাখতে হবে সংবিধানের জন্য মানুষ নয় বরং মানুষের জন্য সংবিধান । বাংলাদেশ তো ভালো পৃথিবীর কোনো দেশের সংবিধানে লেখা নেই যে, একটি সভ্য দেশে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল ছাড়া একটা গ্রহনযোগ্য নির্বাচন হতে পারে ।

শেখ হাসিনা সরকারের অধীনে ৬০০০ নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছেএটা যেমন সত্য তেমনি তথ্য বিভ্রাট হলো ভোটার তালিকায় খালেদা জিয়ার সরকারের আমলের ১ কোটি ৪০ লাখ ভুয়া ভোটার প্রসংগ। ভোটার তালিকায়  ১ কোটি ৪০ লাখ ভুয়া ভোটার খালেদা জিয়া করেন নাই । কারন খালেদা জিয়ার দুই আমলে কখনো নতুন ভোটার তালিকা করা হয়নি ১৯৯৬-হইতে ২০০১ সালের আওয়ামীলীগ সরকার নতুন ভোটার তালিকা করেন সম্ভবত ১৯৯৯-২০০০ সালে । তবে একথা সত্য তখনকার সময়ে পদ্ধতিগত কারনে এরচেয়ে ভালো ভোটার তালিকা করা সম্ভব ছিলো না । অধিকাংশ ভোটার তখন দু তিন জায়গায় ভোটার হতে পারত । একমাত্র একক ছবিযুক্ত ভোটার তালিকা করার পরে ঐ সব ভূয়া ভোটার ঝড়েপরে, অনাকাঙ্খিত ভাবে বিষয়টা আমাদের দেশের রাজনীতি বিদদের ব্লেইম গেইমের বিষয়বস্তুতে পরিনিত হয়  । গোয়েবালসীয় পদ্ধতিতে বাধাহীন ভাবে আওয়ামীলীগ ও তাদের সমমনাদের একক ভাবে মিথ্যা প্রচারনার মাধ্যমে মনে হচ্ছে সত্য সত্যই বিএন পিকে ১ কোটি ৪০ লাখ ভুয়া ভোটারের অপবাদটাও  গিলতে হবে ।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 sheshalo
Site Customized By NewsTech.Com