1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. stsauto2@gmail.com : শেষ আলো : শেষ আলো
শিরোনাম :
 বেরোবি-র  উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে দুর্নীতির ৪৬ অভিযোগ সিলেটে যুক্তরাজ্য থেকে আসা ২৮ জন যাত্রীর শরীরে করোনা পজিটিভ বিশ্বকাপ সুপার লিগে শুরুতে জিতে ১০ পয়েন্ট পেলো বাংলাদেশ আলোচিত সাবেক এমপি আউয়াল ও তাঁর স্ত্রীর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ পূর্বপুরুষের দেশ কলকাতা এসে অভিনেত্রী বনিতা সান্ধু জানলেন, তিনি কোভিড আক্রান্ত নতুন ইতিহাসঃ জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সম্পাদক ইলিয়াস খান ফাইজার ভ্যাকসিন গ্রহণের ১ সপ্তাহ পর নার্স করোনা পজিটিভ সরকার এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য শীঘ্রই অধ্যাদেশ জারি করবে বাংলাদেশ ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করছে, যুক্তরাজ্য থেকে আসা যাত্রীদের প্যানডেমিক প্যাকেজে ট্রাম্পের সই

ভিন্নমতের স্থান হবে হয়তো জঙ্গিবাদের সমান- সৈয়দ আতাউর রহমান (কবির)

  • Update Time : Thursday, January 2, 2014
  • 147 Time View

জনাব আনিসুল হক,প্রথমআলোর উপসম্পাদক – আমার একজন অত্যান্ত প্রিয় ব্যাক্তিত্ব। গত  ৩০ ডিসেম্বর ২০১৩ তার ফেসবুকে একটা স্টাট্যাস নিয়ে আমার লেখাটা শুরু করলেও আমি যা বলতে চাই তা তার স্টাট্যাসের নিচের দুজন মন্তব্যকারীর মন্তব্য কপি পেষ্ট করেই বলবো। জনাব আনিসুল হকের স্টাট্যাসের সারমর্ম ছিল,

“তিনি সংবাদপত্রে কাজ শুরু করেন ১৯৮৭ সালে । ২৬ বছর আগে। এখন  তার অবসর নেবার সময় হয়ে এসেছে । এর পরে দীর্ঘ কর্মজীবনের সংক্ষিপ্ত বর্ননার সাথে ২০১০ এ  কোন এক জরিপে তিনি বাংলাদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় কলাম লেখক ছিলেন” ।

এমন এক সত্যিকারের জনপ্রিয় কলাম লেখক খুব দূঃখ করেই লিখলেন, “আমার কিন্তু যোগ্যতা নাই প্রেসক্লাবে নিজের পরিচয়ে ঢুকে এক গেলাস পানি খাওয়ার। আমি অনেকবার প্রেসক্লাবের সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করেছি ।  বিএনপি সমর্থকেরা নেয় না আমি যথেষ্ট বিএনপি নই বলে, আওয়ামী লীগ সমর্থকেরা নেয় নাই আমি যথেষ্ট আওয়ামী লীগ নই বলে। আমি বলি, ভাই সেটাই যদি যোগ্যতা হয়, তাহলে আমার সেই যোগ্যতা কোনোদিনও হবে না। আমি ভুল বলি, ঠিক বলি, যা মনে হয় তা বলি, কাউকে খুশি করার জন্য বলি না। আমি মনে করি সেটাই হওয়া উচিত সাংবাদিকের বৈশিষ্ট্য। প্রেসক্লাবকে আমি শ্রদ্ধা ও সম্মান করা থেকে বিরতও হই নাই। যে যার কাজ করে চলুক। আমি তো আমার কাজটা করি। আমার কোনো অসুবিধা হয় নাই। ভালোই আছি” । তার এই কথাগুলির মধ্যে আমি একজন সাংবাদিকের বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হলাম ।

তার নিজের স্টাটাসের নিচে অনেকেই মতামত দিয়েছেন ,সেখান থেকে প্রভাবশালী দুই জনের মতামত তুলে ধরলাম,  যেমন- জহির গোলাপ নামে  একজন মতামতে লিখছেন, “আপনি ভাল থাকলে তো হবে না …আমরা ১৬ কোটি মানুষ কিভাবে ভাল থাকবো সেটা দেখা এবং লেখা ও আপনার দায়িত্ব….দেশ আজকে যে হাসিনার হাতের পুতুল হয়ে গেছে সেটা …আপনার মত লেখকদের দেখা দরকার…ইত্যাদি” ।রুদ্র সাইফুলনামে  একজন মতামতে লিখছেন, “জনাব আনিসুল হক, আপনি কি প্রেসক্লাবে আবেদন করেছেন ? দয়া করে যদি আবেদন করে থাকেন এবং কতো তারিখে আবেদন করেছেন সেই তারিখটা একটু জানাতেন তাহলে আমি নিজেই খুঁজে দেখতাম। এভাবে আপনার কাছে মায়াকান্না আশা করি নাই”।

হ্যাঁ আনিসুল হক যা বিশ্বাস করেন তাই লিখেন বা বলেন, তিনি কোন বিষয়েই কট্টোর নয় । প্রেসক্লাবের অভিজ্ঞতা তার নতূন নয় । তার এত লেখালেখির মাঝে কখনো এই অভিজ্ঞতার কথা কোথাও তিনি লিখে প্রকাশ করছেন বলে আমার জানা নেই । বিধি অনুযায়ী আনিসুল হক অনেকবার প্রেসক্লাবের সদস্য হওয়ার জন্য আবেদন করছেন অথচ কতৃপক্ষ তাকে সদস্য পদ প্রদান করেন নাই এটা নিয়ে তিনি দেশের সব পত্রিকায় লিখতে পারতেন , এমন কী এটা জাতীয় পত্রিকায় নিউজ হওয়ার কথা – জানিনা এমন কোন নিউজ আমি হয়তো মিস করেছি ।

যেকথা এখানে স্পস্ঠকরে আমরা বলতে পারছিনা তা হচ্ছে আনিসুল হকের ৩০ ডিসেম্বর  স্টাটাসের বক্তব্য একই দিনে ডিএমপি কমিশনার স্মার্ট পূলিশ অফিসার জনাব  বেনজীরের  বক্তব্যের সমর্থীত কীনা ? মঙ্গলবার দুপুরে জাতীয় প্রেস ক্লাব চত্বরে বিএফইউজে ও ডিইউজে আয়োজিত “বন্ধগণমাধ্যম খুলে দেয়ার দাবিতে” বিক্ষোভ সমাবেশে  চলছিল সেই সমাবেশকে উদ্দেশ্যকরে জনাব  বেনজীর   বলছিলেন –“প্রেসক্লাবে জঙ্গি আছে তাদের কাছে প্রমান আছে” -। তিনি ঐখানে থেমে থাকেন নি , তিনি মন্তব্য করছেন “একটা গোষ্ঠী প্রেসক্লাবকে কুখ্যিগত করে দলীয় স্বার্থে ব্যাবহার করছে  । সব সাংবাদিকদের প্রেসক্লাবের সদস্য পদ লাভের কোন স্কোপ নাই, এই অনিয়ম চলতে দেয়া যায়না। একই বৈঠকে তিনি সুপ্রীম কোর্টে জাতিয়তাবাদী আইনজীবিদের সুপ্রীমকোর্ট বারের ব্যানারে মিছিল করারও সমালোচনা করেন । তিনি সুপ্রীমকোর্টের প্রধান বিচারপতি সহ সংস্লিষ্ঠদের প্রতি এ বিষয়েটির প্রতি দৃষ্টি আকর্ষনের  জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানান” ।

প্রেসক্লাবের অনিয়ম এবং সুপ্রীমকোর্টের ভিতরে মিছিল করা না করা এটা নিয়ন্ত্রন করা কী প্রথমিক ভবে এখন পূলিশের উপরই ন্যাস্ত হয়েছে ? অর্থাৎ সারা ঢাকা শহড়কে তারা নিয়ন্ত্রন করলেও এই দুই স্থানে বিএনপি পন্থীরা মিটিং মিছিল করে যাচ্ছে ঐটাই তাদের গত্রদহ । দেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বর্তমানের বিরোধী দলীয় নেত্রীকে যদি পূলিশ আদিম বরবর স্টাইলে অবরুদ্ধ করে রাখতে পারেন তবে, সেই পূলিশ প্রেস ক্লাব চত্বরকে ভিন্ন মতালম্বীশুন্য করতে ওপেন ডিকলার দিয়েই করতে পারেন, তাতে সাংবাদিকদের জংগী আখ্যায়িত করার কী প্রয়োজন ?

যদিও ২৯ তারিখ বিএনপি পন্থী আইনজীবিরা সুপ্রীমকোর্ট বারে একত্র হয়ে মিছিল নিয়ে “মার্চ ফর ডেমোক্রেসী” কর্মসূচী তে অংশগ্রহন করার জন্য রওয়ানা করছিল, কিন্তু পূলিশ সুপ্রীমকোর্টের মূল  গেট বন্ধ করে মিছিল কারী আইন জীবিদের গেটের মধ্যেই আবদ্ধ করে রাখেন,তারা বেরুতে চাইলে বারবার তাদের উপর জলকামান ব্যাবহার করাহয় । অন্যদিকে পূলিশের ছত্রছায়ায় আওয়ামীলীগ নামক ঐতিহাসিক পূরানো দলটি প্রমান করছে যে,একটা দলও বুড়া হয়ে যেতে পারে একটা দল অসুস্থ ও হতে পারে । একজন মহিলা আইনজীবীর ওপর যেভাবে লাল ঘোড়া দাবড়ানোর মতো লাঠি পড়েছে, তাতে বাংলাদেশ কেন, বিশ্ববাসী চমকে উঠেছেন। ১৩৭টি দেশে এই ছবিটি ছাপা হয়েছে বার্তা সংস্থাগুলোর বদৌলতে। সুপ্রীমকোর্টের ভিতরে এমন বর্বরতা শুধু মাত্র ঐ বুড়া দলটি দ্বারাই সম্ভব যা তারা বারবার প্রমান করছেন ।শুধু পিটিয়ে ক্ষান্ত হয়নি মহিলা আইন জীবিদের পূরূষ সন্ত্রসীরা কানধরে ওঠবসা করিয়েছে, প্রায় বিবস্র করে মাটিতে গড়াগড়ী করানো স্বচিত্র এ ছবিগুলি দেখে যেকোন বাংলাদেশী মানুষ অপমান বোধ করবেন। আমি আরো বেশী অপমানীত হই টকশো খ্যাত আওয়ামীলীগ দলীয় মহিলা এমপি অপু উকিলকে  ভদ্রবেশী লেডীসন্ত্রাসী নেতৃত্বের ভূমিকায় দেখে। পরিস্থিতি নিয়ে ব্যারিস্টার রফিক-উল হকে বলছেন,সুপ্রীমকোর্টের  জানাজা পাঠ হয়ে গেছে।

ঐ প্রবীন দলটির সমর্থক আইনজীবিদের কার্যক্রম আমাদের মনে থাকার কথা, যারা সুপ্রীমকোর্টের বিচারপতিদের এজলাশে লাথীমেরে ভাংচুরের ঘটনা ঘটিয়েছিল এবং পূরুস্কার হিসাবে তাদেরকে সুপ্রীমকোর্টের বিচারপতি বানানো হয়েছিলো । বিএনপির (২০০১-২০০৬) শেষ দিকে অসহোযোগ আন্দোলনের নামে সুপ্রীমকোর্টের ভিতরে সাধারন গাড়ী পার্কীংয়ে যে ভাবে গাড়ী পোড়ানো হয়েছিল, মিডিয়ার মাধ্যমে সে দৃশ্য দেশ বিদেশে ছড়িয়ে পরছিলো । থাকতে পারে সে আন্দোলনের যৌক্তিকতা , সেটা একটা ভিন্ন বিতর্ক । তখনকার সেই তান্ডব নিশ্চই সব মিডিয়ার আর্কাইভে সংরক্ষিত আছে । স্মার্ট পূলিশ অফিসার জনাব  বেনজীর   কিংবা জনাব আনিসুল হকের মত জনপ্রিয় স্বনামধন্য সন্মানিত কলাম লেখকরা ইচ্ছা করলেইতো  ঐ সব মিডিয়ার আর্কাইভে ঘুরে আসতে পারেন, আমাদের মত হয়রানী ও ঝামেলাছাড়া । সে আর্কাইভে দেখতে পাবেন তখনকার আইন প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীরউত্তম তার নিজের হোন্ডা সিআরভি জীপটিকে তখনকার আওয়ামীলীগের  অহিংস আন্দোলনের সহিংস ভাড়াটে বাহিনী কীভাবে জ্বালিয়ে দিয়েছিলেন । আমরা তখন একজন বীরউত্তম কে অসহায়ের মত তাকিয়ে থাকতে দেখছি , তিনি দেখছেন  তারনিজেরই গাড়ী  ধাউধাউ করে জ্বলছে। একজন বীরউত্তম দেখছেন  সেই  লেলিহান শীখা।

উল্লেখ্য বর্তমানে প্রেসক্লাবের নির্বাচিত কমিটি, দ্বিধাবিভক্ত বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশের) নির্বাচিত কমিটি, ঢাকা (বারের) আইনজীবি সমীতি, সুপ্রীমকোর্ট বারের নির্বাচিত কমিটি সহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচিত শিক্ষক সমীতি তে জাতিয়তাবাদী (বিএনপি) সমর্থীত প্রার্থীরা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন । অনেকেই আশংকা করছেন বিরোধী জোটের “মার্চ ফর ডেমোক্রেসী” প্রোগ্রামকে ডিএমপি এর “অনুমোদন হীন” বলে পূলিশ যেভাবে সফলভাবে পন্ড করতে পারদর্শীতা দেখিয়েছেন এবং প্রধান বিরোধী দলের নেত্রীকে তথা তার বাড়ীকে বালির ট্রাক দিয়ে যেভাবে বেরিকেটের মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছেন তাতে পূলিশ কর্মকর্তাদের মন বেশ উৎফুল্ল। তাদের মনে এতই সাহস সঞ্চয় হয়েছে, যে এর পরে তারা মানুষের বাক স্বাধীনতা কে নিয়ন্ত্রনের পদক্ষেপ নেওয়ার পূর্ভাবাস হিসাবে জনাব  বেনজীরের   বক্তব্যকে মনেকরছেন ।  যারাই তার বক্তব্য বিষ্লেশন করছেন তারা অনেকেই আমর সাথে একমত হবেন যে, জনাব বেনজীরের  প্রেসক্লাব এবং সুপ্রীমকোর্ট নিয়ে মন্তব্যটা বেশ রাজনৈতিক দলের নেতাদের মত, বিশেষ করে আওয়ামী লীগের সেক্রেটারী জেনারেলের বক্তব্যের সমকক্ষ। যদিও প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে রুহুল আমিন গাজী  বলছেন, আপনার আর প্রধানমন্ত্রী থাকার দরকার নেই।  বেনজিরকে প্রধানমন্ত্রী কিংবা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ দিয়ে দেন। তিনি একাই সব কিছু পরিচালনা করতে পারবেন”। ডিইউজে সভাপতি আব্দুল হাই সিকদার বলেন, বেনজীর পুলিশকে এখন পুলিশ লীগে পরিণত করেছেন। ইকবাল সোবহান চৌধুরীর সমালোচনা করে তিনি বলেন , আপনি সাগর-রুনীর রক্ত পায়ে মাড়িয়ে ঢাকায় ৩৫ টি প্লটের মালিক ও একটি টিভি চ্যানেলের মালিক হয়েছেন। তাই সাগর-রুনীর হত্যাকারীদের গ্রেফতারের দাবি করছেন না”।

সাগর-রুনীর হত্যাকান্ডের সত্যিকারের বিচার যারা চান তারা ইকবাল সোবহান চৌধুরীকে সরকার দলীয় সাংবাদিক হিসাবেই চিনেন। তাই সাগর-রুনীর হত্যাকান্ডের যৌক্তিক আন্দোলনকে তিনি সহয়তা করতে পারবেন এমন ধারনা নিয়েই মাঠ পর্যায়ের সাধারন সাংবাদিকরা  তাকে বড় নেতা বানিয়েছিলেন। মৃত সাগর রুনীর চরিত্র হনন করে বক্তব্য রাখলে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ইকবাল সোবহান চৌধুরী লাইফ টিভিত বেশ কড়া ভাষায়ই শাসিয়েছিলেন । কয়েক মাসের মাথায় তিনি খোদ প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব হিসাবে নিয়োগ পান । সাগর-রুনীর হত্যাকান্ডের বিচার তো দূরের কথা মাঠপর্যায়ের আন্দোলন ও এখন বন্ধ । আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন মহাজোট সরকারের শাসনামলের ৫ বছরে ১৮ সাংবাদিক খুন হয়েছেন। এসময়ে আক্রমনের শিকার হয়েছেন ১৩৮৯ জন। এর মধ্যে ৮২২ জন সাংবাদিক আহত, ২৬৭ জন লাঞ্ছিত ও ৩০০ জন হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন জনাব ইকবাল সোবহান চৌধুরীর কাছে এই মূহুর্তে সাংবাদিক খুন , জখম ও হুমকীর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ও প্রতিকারের আশা আমরা করতেই পারি কিন্তু সবকিছু ম্যানেজ হওয়ার এইদেশে সাগর-রুনীর হত্যাকান্ডের রহস্য যখন মানুষের মূখেমূখে প্রচার হয়ে যাচ্ছে তখন বিচার ও বিচারের দাবী ম্যানেজ হওয়ার মাধ্যমে ফ্যাঁসিবাদির বৈধতা পাকা পোক্তই হবে ।

শুধু সাংবাদিক নয়, ফ্যাঁসিবাদ কায়েমের  রায্ট্রের সব অর্গান গুলি একেরপর এক ম্যানেজ হওয়ার মাধ্যমে ফ্যাঁসিবাদ বাস্তবায়িত হয়ে চলছে । বিশেষ বিশেষ জেলা থেকে নিয়োগ কৃত সরকারী অনুগত পূলিশ বাহিনী আন্দোলন কারীদের দমনে চরম ভাবে  ম্যানেজ হয়েছে । পিলখানায় সেনাবাহিনীর  ৫৭ জন চৌকস কর্মকর্তার জীবন দেওয়ার মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে অনুগত করার  শুদ্ধভিযান শুরু হয়েছিল । বিডিআর এর নাম চেজ্ঞ করে অনুগত বিজিবি নাম ধারন করে ম্যানেজের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগসুবিধে গুলি নিশ্চিৎ করা হয়েছে । প্রসাশনে অনুগত নয় এমন কর্মকরতাদের “অফিসারস অব স্পেশাল ডিউটি”র নামে দলেদলে ডিএকটিভ করে রাখা হয়েছে । অনুগত প্রসাশনিক কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত সুযোগ সুবিধে দেওয়া হয়েছে, এমন কী সচীব পর্যায়ের সকল কর্মকর্তাদের  বিপুল পরিমান অর্থের যোগান দেওয়া হয়েছে,কেউ কিনছেন গাড়ী, কেউ কিনছেন  ফ্লাটবাড়ী । ঘোষনা দিয়ে দলীয় অনুগত হাজার হাজার ডাক্তার সহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিস্ঠানে নিয়োগ দেয়া হয় ।

বর্তমানের এই অথর্ব নির্বাচন কমিশন গঠনেরজন্য তথাকথিত যে সার্চ কমিটি গঠনকরা হয়েছিল  তার অন্যতম সদস্য ছিলেন  পুলিশ সার্ভিসের কট্টরপন্থি আওয়ামী লীগ বলে পরিচিত এবং ১৯৯৬ সালের জনতার মঞ্চের কুশীলব,২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর নিরাপত্তার তদারকিতে নিয়োজিত বর্তমানে পিএসসির চেয়ারম্যান জনাব, এ টি আহমেদুল হক চৌধুরী । তার নেতৃত্বে  যে সব ব্যাক্ত্তিদের নিয়ে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়েছে-তাদের দ্বারা আর যতই নাটক মঞ্চায়ন করা হোক না কেন দলীয় অনুগত্যের বাহিরে কোন নির্বাচন কমিশন গঠন তাদের দ্বারা সম্ভব হয়নি । তার সর্বশেষ প্রমান মিলে নির্বাচন কমিশনের ওয়েব সাইট থেকে প্রার্থীদের হলফনামা গায়েব হওয়ার মাধ্যমে । আর দূর্নীতি দমন কমিশনঃ যারা নির্বাচন কমিশনের ওয়েব সাইট থেকে প্রকাশ হওয়া ফুলেফেপে উঠা প্রার্থীদের সম্পদ হাজার গুন বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি তদন্ত করবে কীনা এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন  পত্রিকায় প্রকাশ হলেই দূর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করতে বাধ্যনয়, তাছাড়া নির্বাচনকে সামনে রেখে তারা বাড়তি ঝামেলায় জড়াতে চান না ।

অন্দর মহলের কিছু অজানা কাহিনী বলছি,  বিএনপি যাতে কখনও নির্বাচনমুখী না হয় সেটা ছিল সরকারি কৌশল। কেননা, সরকার জানে বিএনপি যেনতেন ব্যবস্থায় নির্বাচনে গেলেও জয় পেয়ে যাবে। মানুষ পরিবর্তন চায়। পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষায় তারা ভোট দেয়ার জন্য উদগ্রীব। এর মধ্যে পাঁচ পাঁচটি সিটি করপোরেশন নির্বাচন খালেদার ভাগ্য নির্ধারিত হয়ে যায় । শাসকরা তখন নিশ্চিত হয়ে যান নির্বাচনে সব দলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার অর্থ হচ্ছে পরাজয় মেনে নেয়া। নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারার শামিল। তাই তারা এমন এক কৌশল নেন তাতে বিএনপির নির্বাচনে অংশ নেয়ার পথ রুদ্ধ হয়ে যায়। খালেদা টের পেয়ে পথ খুঁজছিলেন। প্রেসিডেন্টের কাছেও গিয়েছিলেন। হাসিনাকে বাদ দিয়ে শাসক দলের যে কাউকে অন্তর্বর্তী সরকারে নেয়া হলে সে নির্বাচনে বিএনপি অংশ নিতো। অন্তত বিদেশী কূটনীতিকদের কাছে বিএনপি এই আগ্রহের কথা জানিয়েছিল একাধিকবার। সে চেষ্টাও ব্যর্থ হয় শেখ হাসিনার কড়া মনোভাবের কারণে। তিনি নিজে প্রেসিডেন্টের কাছে গিয়ে বলে এসেছেন এমন কোন তৎপরতায় যেন লিপ্ত না হন। যদিও একপর্যায়ে প্রেসিডেন্ট যাতে বিএনপির সঙ্গে সমঝোতার একটি উদ্যোগ নেন সে জন্য অন্যপক্ষের মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়েছিলেন। সর্বজনশ্রদ্ধেয় বর্ষীয়ান সাংবাদিক এবিএম মূসার কাছে যোগাযোগমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে পাঠিয়েছিলেন। ওবায়দুল কাদের যখন প্রস্তাবটি নিয়ে এবিএম মূসার কাছে যান তখন তিনি জানতে চেয়েছিলেন এটা কি তার প্রস্তাব, নাকি প্রধানমন্ত্রীর ? কাদের তখন বলেন, আমাকে নেত্রী পাঠিয়েছেন। সড়ক ভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠক থেকে বের হয়ে এবিএম মূসা সরাসরি প্রেসিডেন্ট হাউসে ফোন করে সময় চান। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে সময় দেয়া হয়। প্রেসিডেন্ট আবদুল হামিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে পুরো বিষয়টি তাকে অবহিত করেন। এর আগে তিনি বিএনপির সঙ্গে কথা বলেন। মির্জা ফখরুল বলেন, তারা রাজি। বলাবলি আছে প্রেসিডেন্টের কাছ থেকে সবুজ সঙ্কেত পাওয়ার পর খালেদা জিয়া তার ১৮ দলের সঙ্গীদের নিয়ে বঙ্গভবনে যান। এই যখন অবস্থা তখন প্রধানমন্ত্রী তার সিদ্ধান্ত স্থগিত করে নয়া কৌশল নেন। মাঝখানেই থেমে যায় আবদুল হামিদের সমঝোতা প্রচেষ্টা। শোনা কথা, বিএনপি যদি প্রেসিডেন্টের আন্ডারে কোন নির্বাচনে রাজি হয়ে যায় তখন সর্বনাশ হয়ে যাবে এমন যুক্তিতেই সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। এর কয়েকদিন পর প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে প্রধানমন্ত্রী ভিন্ন এক প্রস্তাব দেন। এতে প্রেসিডেন্ট সায় দেননি। তখন সরকার একদম মরিয়া। যেনতেন প্রকারে নির্বাচন করতে হবে। তাদের কাছে খবর ছিল খালেদা নির্বাচনমুখী নন। এরশাদও দোটানায়। একপর্যায়ে এরশাদকে রাজি করানো হলো। তবে সংশয় ছিল গোড়া থেকেই। এরশাদ যে কোন সময় বেঁকে বসতে পারেন। হঠাৎ করেই এরশাদ বদলে যান। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ান। এরপর এরশাদকে নানাভাবে চাপ দেয়া হয়। এরশাদ সিদ্ধান্তে অনড় থাকলে তাকে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসার নামে কেবিনবন্দি করা হয়। শীর্ষস্থানীয় একজন চিকিৎসকের অধীনে এরশাদকে মানসিক রোগের চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়। রাখা হয় কম গুরুত্বপূর্ণ এক কেবিনে। কিন্তু এরশাদ কৌশল আঁটতে থাকেন। একদিন তিনি কর্তব্যরতদের রাজি করিয়ে গলফ খেলতে চলে যান। এ থেকে জাতির সামনে এই বার্তাই দেন যে, তিনি সুস্থ মানুষ। খালি খালি তাকে আটকে রাখা হয়েছে। এরশাদ এতটা সাহস কিভাবে করলেন তা নিয়ে অনেকেই অনেক অঙ্ক মেলাচ্ছেন। অন্দর মহলের এই অজানা কাহিনীটুকু আমার বানানোনয়, (1st January2014 online manabzamin 4:13)  লিপিবদ্ধ আছে এসবকথা ।

৫ জানুয়ারী ২০১৪ কাগুজে নির্বাচন একটা হবে, এই নির্বাচনের বিকল্প ছিলো দুই বিবাদমান দলের মধ্যে সমাঝোতা, সেই সমাঝোতা হওয়ার সম্ভবনা যখন জিরো পার্সেন্ট । তখন নির্বাচন নিয়ে এই মূহূর্তে আমার কোন সন্দেহ নাই । এমন কী বিকল্পও নাই। ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন হয়ে গেলে দেশের অবস্থা ভালোমন্দ কী হবে সেটা সরকারের আচারনের উপর নির্ভর করবে । সরকার নিজেদের বলা কথা যদি রক্ষা করেন তো ভালো । না হয়তো দেশের আকাশে আবার দেখবো বিরল প্রানী শকুনের আনাগোনা । আমরা নৈরাজ্য চাইনা । বিএনপির আন্দোলনের কর্মসূচীতে নৈরাজ্যের স্থান ছিল না,বিগত বেশ কয়েক মাসের আন্দোলনকে জনগন বিএনপির আন্দোলন হিসাবে মানতে চায়না। বিএনপির আন্দোলন  মানে রোডমার্চ আর বড়বড় সমাবেশ ও  মহা সমাবেশ। বিএনপি যদি নিজেস্ব সেই কর্মসূচী ছাড়া বর্তমানের  কর্মসূচী অব্যাহত রাখে  তবে  দেশের সামনে যে ঘোর অন্ধকার তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। সরকার ও বিরোধী দল যদি বুঝতে ব্যার্থ হয় যে “ত্যাগে রাজনীতি ভোগে নয়,” তাহলে ৫ই জানুয়ারির পরে কলংকের তিলক যুক্ত এক বাংলাদেশে আমরা বাস করবো। আমরা চোখের সামনে এখন দেখছি দেশটা আপাতত পূলিশী রাষ্ট্রে পরিনত হয়েছে । দলহীন জোট হীন ভোট হীন গণতন্ত্রের নামে রাজনীতি শূন্যতা থেকে দেশে  একনায়কতন্ত্রের জন্ম হতে যাচ্ছে  । আমরা লিখে যাচ্ছি এইটুকু এখনও  আমাদের পাওয়া । এমনও হতে পারে আগামীতে যে একদলীয় গণতন্ত্র হাতছানি দিয়ে ডাকছে সেখানে  ভিন্নমতের স্থান হবে হয়তো জঙ্গিবাদের সমান । ০২ জানুয়ারী ২০১৪ (শেষআলো ডটকম): সৈয়দ আতাউর রহমান (কবির):

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 sheshalo
Site Customized By NewsTech.Com