1. litonsaikat@gmail.com : neelsaikat :
  2. stsauto2@gmail.com : শেষ আলো : শেষ আলো
শিরোনাম :
 বেরোবি-র  উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহর বিরুদ্ধে দুর্নীতির ৪৬ অভিযোগ সিলেটে যুক্তরাজ্য থেকে আসা ২৮ জন যাত্রীর শরীরে করোনা পজিটিভ বিশ্বকাপ সুপার লিগে শুরুতে জিতে ১০ পয়েন্ট পেলো বাংলাদেশ আলোচিত সাবেক এমপি আউয়াল ও তাঁর স্ত্রীর সম্পদ ক্রোকের নির্দেশ পূর্বপুরুষের দেশ কলকাতা এসে অভিনেত্রী বনিতা সান্ধু জানলেন, তিনি কোভিড আক্রান্ত নতুন ইতিহাসঃ জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন, সম্পাদক ইলিয়াস খান ফাইজার ভ্যাকসিন গ্রহণের ১ সপ্তাহ পর নার্স করোনা পজিটিভ সরকার এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের জন্য শীঘ্রই অধ্যাদেশ জারি করবে বাংলাদেশ ১৪ দিনের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিন বাধ্যতামূলক করছে, যুক্তরাজ্য থেকে আসা যাত্রীদের প্যানডেমিক প্যাকেজে ট্রাম্পের সই

আজকের এ ফিরে যাওয়া হেরে যাওয়া নয়

  • Update Time : Saturday, August 4, 2018
  • 189 Time View

“ ০৪ আগষ্ট ২০১৮”

গত ২৯ জুলাই ২০১৮ রাজধানীর কুর্মিটোলায় জাবালে নূর পরিবহনের একটি বাস একদল শিক্ষার্থীকে চাপা দেওয়ার পর ঘটাস্থলে ২জন, পরে হাপাতালে আরো ২জন সহ মোট ৪ জন নিহত হওয়ার পর থেকে নয় দফা দাবি নিয়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রাস্তায় নেমে পড়েছে।কার্যত ঢাকার রাস্তায় যান চলাচল নিয়ন্ত্রণের পুরোটাই এতদিন আন্দোলনরত কিশোরদের হাতে চলে গিয়েছিল।

কিন্তু আমার মনে হয় যৌক্তিক আন্দোলনের চেহারায় এখন একটু পরিবর্তন এসেছে।সেই পরিবর্তনটা ছাত্রলীগ বলেন পুলিশ বলেন কিংবা তাদের  যৌথ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে হোক কিংবা ছাত্রদল আর শিবিরের হাইডেন মিশ্রনেই হোক ।খবর আসছে মার্কেটে নাকি হঠাৎ স্কুল কলেজের ড্রেসের বেচা কিনা অস্বাভাবিক ভাবে বেরে গেছে । এটা এখন চিন্তার বিষয় কারণ এই আন্দোলন কারীদের কোন নেতা কিংবা কোন মুরব্বি নাই l

 

কিশোরদের এ আন্দোলন এক শতভাগ সফল হয়েছে। পৃথিবীর ইতিহাসে এমন কোন নজীর আছে কিনা আমাদের জানা নেই, যে কোমলমতি শিশুরা এভাবে আন্দোলন গড়ে তুলতে পারে ।  আমরা মনে করি এখন কিশোরদের ঘরে ফিরে যাওয়া উচিত কেননা  তাদের আন্দোলন ব্যর্থ করার জন্য এখন রাজনৈতিক রঙ এখানে যুক্ত হয়েছে । কোমলমতি আন্দোলনকারীরা ভুলও করে ফেলতে পারে। তাদের মধ্যে স্বার্থন্যাসী মহলের  অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে।  তাই  তাদের কথাবার্তা ও শ্লোগান ও প্লেকার্ডে কিছুটা সাবধান হওয়া জরুরী। নিয়মনীতি পৃষ্ট করে আপন মিডিয়ায় বরাবরের মত রাজনৈতিক নেতার অডিও রেকর্ড টনিক হিসাবে বাজানো হচ্ছে। সরকারি সংগঠনের ছাত্র সংগঠন হামলা উপর হামলা করছে । অসমর্থিত ভাবে আজকেও প্রায় ৪ জনের মৃত্যুবরণ করার এবং ২০ জনের আহত ৪ জন মেয়ের রেপ হওয়ার গুজব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে । আমরা কায়মন বাক্যে চাই এগুলি যেন নেহায়েত গুজবই হয়। আসলে ঘটমান বর্তমানটা  আমাদের কারো কাম্য নয়। আমাদের অভিবাবকদের এখনই উচিত কোমলমতি শিশুদের রাস্তা থেকে ঘরে ফিরিয়ে নেওয়া। এটা হেরে যাওয়া নয়, বাঘের সামনে আপনি আপনার সন্তান ঠেলেদিবেন কেন ?

 

কিশোরদের এ আন্দোলন কখনোই সরকার পতনের আন্দোলন ছিল না ।এ আন্দোলনে আপামর জনতা প্রশাসন সরকার সরকারের উচ্চপদস্থ মন্ত্রী আমলা সবাই স্বীকার করেছেন যে এই আন্দোলনের যৌক্তিকতা আছে । সরকার বা সরকারি প্রশাসন যদি মনে করে এই আন্দোলনের যৌক্তিকতা আছে তো সেই আন্দোলনে সরকারি দল বিরোধী দল যে কোন দলের কোনো ব্যক্তি বা সমর্থক অংশগ্রহণ করলে সমস্যা তো কিছু নেই ।

কিশোরদের আর কী অর্জন চাই…….আন্দোলনকারীরা মন্ত্রীর গাড়ি উল্টো দিকে যাচ্ছে সেই গাড়ি থামিয়ে দিয়ে মন্ত্রী কে বাধ্য করছে পিছনে চলে যেতে l মন্ত্রীর গাড়ির ড্রাইভার লাইসেন্স বিহীন চলছে সেটা উন্মোচন করছে  । এমপির গাড়ি চালাচ্ছে কাগজপত্র ছাড়া  সেটা উন্মোচন করছে ।আইন প্রয়োগকারী সংস্থা পুলিশ আইন না মেনে যা ইচ্ছে তাই করছে।ছাত্ররা পুলিশের মূখোশ উন্মোচন করছে। এক পুলিশের বিরুদ্ধে আর এক পুলিশকে আইন ভঙ্গের মামলা নিতে বাধ্য করছে। বিজিব এবং সেনাবাহিনীর গাড়ীর ড্রাইভারের লাইসেন্স চেক করতে গিয়ে মেয়াদ হীন লাইসেন্স পাওয়া গিয়াছে । ড্রাইভারের  লাইসেন্স না থাকায় সেনা অফিসার তার নিজের লাইসেন্স প্রদর্শন করে ড্রাভিং আসন থকে ড্রাইভারকে প্রত্যাহার করে নিজেকেই গাড়ী ড্রাইভ করে চলে যেতে দেখা গেছে । এভাবে অনেক কে স্বসন্মানে পুলিশের নিকট নিয়ে গিয়ে মামলা নিতে বাধ্য করছে ।

 

কিশোরদের এ আন্দোলন যে সফল  হয়েছে  তা প্রশাসনও স্বীকার করে।  আজ শনিবার রাজধানীর ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে চলমান পরিস্থিতি নিয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “আমাদের কোমলমতি শিশু, তরুণেরা যা করেছে তাদেরকে স্যালুট।“তারা ট্রাফিক সপ্তাহে সহায়তা করতে চাইলে তাদের স্বাগত। তারা পুলিশের নৈতিক ভিতকে জাগিয়ে তুলেছে, অনেক শক্তিশালী করেছে, চোখ–কান খুলে দিয়েছে। তাদের অসংখ্য ধন্যবাদ। তবে এখন তাদের ঘরে যাওয়া উচিত”।

সবকিছু দেখে  সরকারের উচ্চ মহলে  বেশ আলোড়ন সৃষ্টি করছে , নিশ্চই প্রধানমন্ত্রী বিষ্মিত হয়েছেন কারণ, এই আন্দোলনকারীদের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী সার্বিক পরিবহন খাতে যে নৈরাজ্য চলছে তার একটি চিত্র সে চোখে দেখতে পারছেন l আন্দোলনকারীদের যে দুর্বল দাবি-দাওয়া সেগুলোর সরকার খুব সহজেই মেনে নিতে পারছেন l এই অবস্থায় আন্দোলনকারীদের এখন আর  রাস্তার ট্রাফিক ব্যবস্থা পরিচালনা করা গাড়ির বৈধ কাগজপত্র এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে কিনা  তা আর বেশিদিন চেক করা উচিত হবে না । কারণ এটা তাদের কাজও নয় l এটা পুলিশ ও প্রশাসনের কাজ । সে কাজ করতে পুলিশ ও প্রশাসনে ব্যর্থ হয়েছে l আর সে ব্যর্থতা কিশোর আন্দোলনকারীরা দেশ তথা গোটা পৃথিবীর সামনে তুলে ধরছেন l আর এখন তো সরকারকে সুযোগ দেওয়া উচিত সুন্দর ও সুস্থভাবে সকল দাবী বাস্তবায়নের ।

 

সর্বশেষ….. আমজনতা যতই বলুক এ আন্দোলন সরকার পতনের নয় কিন্তু সরকার তা বিশ্বাস করতে রাজি নয় l কেননা সরকারের নৈতিক ভিত কতটা শক্ত তা সরকার নিজেই জানে। আবার অপর দিকে ক্ষমতার বাহিরে যারা আছে তারাতো অবশ্যই একটা সুযোগ নিতে চাইবেন যেন সরকার চরম সমস্যায় নিপাতিত হোক ।তাই সরকারের মধ্যে যদি এমন ধারনা সৃষ্টি হয় যে এ আন্দোলন সরকার পতনের আন্দোলন কিংবা সরকারকে বেকায়দায় ফেলার আন্দোলন  তাহলে, কি শিশু আন্দোলন কি কিশোর আন্দোলন ? আর কিছুতেই বাংলার মাটিতে আন্দোলন করা সম্ভব হবে না। মনে থাকার কথা ২০১৩ সালের বিএনপি জামাতের আন্দোলনের কথা । সে আন্দোলনে তাদের সব সফলতা কিন্ত ধুলায় উরে গিয়েছিলো শুধুমাত্র একটানা দীর্ঘমেয়াদী কর্মসূচী প্রতাহার না করার জন্য  ।  তাই বলছি সময় বুঝে সিদ্ধান্ত না নিলে সব বিসর্জন হয়ে যাবে । যে দেশের কর্তাব্যক্তিরা বিশেষ করে মন্ত্রী  এমপিরা নিজ সন্তানের মতো আন্দোলনকারী শিশুদের নিয়ন্ত্রনের মধ্যে চলে গিয়েছিলো । সেই আন্দোলনকারী শিশুদের এখন ই যদি আমরা ঘরে ফিরায়ে না নেই তা হলে কিন্তু আমাদের শিশুরা সব মহলের সুনজর বঞ্চিত হবে । মনে রাখতে হবে,  আজকের এ ফিরে যাওয়া হেরে যাওয়া নয় । ০৪ আগষ্ট ২০১৮. Syed Ataur Rahman Kabir

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
© All rights reserved © 2020 sheshalo
Site Customized By NewsTech.Com